বিসিবি নির্বাচন: ৮ কারনে সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন মাশরাফি

প্রথমে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ দিয়ে শুরু। এরপর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি আসর। এর পরপরই হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ। সেটা শেষ হতেই মাঠে গড়িয়েছিল দুই পর্বের জাতীয় লিগ। পাশাপাশি জাতীয় দল ঘুরে এলো নিউজিল্যান্ড আর শ্রীলঙ্কা থেকেও।

ওই দুই দেশে সিরিজ শেষে লঙ্কানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজও শেষ হলো। এখন শুরু হয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট তথা প্রিমিয়ার লিগ। ওই লিগ শেষে টাইগারদের গন্তব্য জিম্বাবুয়ে। সেখানে টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সবই খেলবেন তামিম, সাকিব ও মুশফিক, মুমিনুল, রিয়াদ-মোস্তাফিজ ও মিরাজরা।

এতো গেল বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডের খবর; কিন্তু দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংগঠন বিসিবির অভ্যন্তরীণ খবর কী? ক’জনই বা জানেন যে, কীভাবে চলছে দেশের ক্রিকেট? দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংগঠন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদকাল যে প্রায় শেষ, সে খবর জানেন কতজন?

অনেকটা নিভৃতেই চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের প্রস্তুতি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হচ্ছে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ। নিয়মানুযায়ী মেয়াদ শেষ হবার পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে নতুন নির্বাচন। বাংলার ক্রিকেটের পথ প্রদর্শক হিসেবে কে যোগ্য??

একবাক্যে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমী প্রায় সকল মানুষের মুখে একটি নাম এই মুহূর্তে উচ্চারিত হচ্ছে “মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা” কেন মাশরাফী বিসিবি সভাপতি হিসেবে যোগ্যতার দাবী রাখে..? ★মাশরাফীর সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম বিশ্বনন্দিত একই সঙ্গে নিজ ব্যক্তিত্ব গুণে তিনি তরুণ প্রজন্মের আইকন।

★সাধারনত একজন জাতীয় সংসদ সদস্য বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়। সেক্ষেত্রেও মাশরাফী বিন মোর্তজা যোগ্যতা রাখে। ★মাশরাফী বাংলার ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অধিনায়ক, যার নেতৃত্বে বাংলার ক্রিকেট স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে শিখেছে যেটা প্রমানিত।

★অধিনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে সাফল্য প্রমান করে তিনি একজন দক্ষ নেতা। ★ দেশের অভ্যান্তরে আঞ্চলিক টূর্ণামেন্টে যখন দর্শকের উপস্থিতি দেখা যায় না, তখন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টূর্ণামেন্ট আয়োজন করে যেখানে দর্শকদের উপচে ভিড়, একই সঙ্গে এই আয়োজনের অনুকরনে দেশের বিভিন্ন জেলায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় অর্থাৎ মাশরাফী একজন দক্ষ সংগঠক।

★বর্তমান সময় জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ব্যতীত আগামীর জন্য বিশ্ব মানের খেলোয়াড় তৈরীতে আমাদের দূর্বলতা রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন পরীক্ষীত সফল অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে মাশরাফী অনবদ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

★বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে মাশরাফীর দেওয়া সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও খেলোয়াড় নিয়ে তার যে পরিকল্পনা উঠে এসেছে সেটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সাফল্যের চূড়ায় এগিয়ে নিয়ে যাবে।

★ বিসিবি সভাপতি পদে অন্য যারা দাবীদার রয়েছেন তাদের সাথে মাশরাফীর পার্থক্য এখানে, তাদের লক্ষ্য থাকে বাংলাদেশ দল যেন বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারে, আর মাশরাফীর লক্ষ্য থাকে দলকে ফাইনালে নেবার, মাশরাফী স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপ জয়ের। মাশরাফী এমনই এক স্বপ্নবাজ তরুন যিনি জেগে স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে জানেন।

★ ক্রিকেটের জন্য অন্যদের অবদান আর মাশরাফীর অবদান তুলনা করে দেখলে বোঝা যায় কেন মাশরাফী সবার থেকে এগিয়ে। বর্তমান পরিষদের দূর্বল নেতৃত্বের জন্য আজ বাংলার ক্রিকেটে এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

দূর্ণীতি, অনিয়ম ও অপেশাদার সুলভ আচারনে বর্তমান নেতৃত্ব সমালোচিত হয়ে বাংলার মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এমতবস্থায় বাংলার ক্রিকেটের উন্নয়নে এমন একজন পদ প্রদর্শক প্রয়োজন যার সততা ও দক্ষ নেতৃত্বে বিসিবি বাঙ্গালীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.