বুথ থেকে টাকা চুরি, হোতা ব্যাংকেরই কর্মকর্তা

রংপুর নগরের একটি এটিএম বুথ টাকা চুরির ঘটনায় আবু রায়হান নামের একজনকে গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআইয়ের রংপুর জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন। এর আগে শনিবার (২০ নভেম্বর) রাতে রংপুর নগরের ডিসির মোড় এলাকা থেকে আবু রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রে’প্তারকৃত ব্যক্তি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ওমানন্দ গ্রামের মৃ’ত মতিয়ার রহমানের ছেলে আবু রায়হান। তার বর্তমান কর্মস্থল বগুড়া জেলায় প্রাইম ব্যাংকের শেরপুর শাখা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পীষূয কুমার রায় রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ করেন।

ওই অভিযোগে প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অজ্ঞাত হ্যাকার, চোর, ই-ট্রাঞ্জেকশন, অথবা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে চু’রি হয়েছে দাবি করা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মা’মলাটি রংপুর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। এরপর অনুসন্ধানে বের হয় এটিএম বুথ থেকে এসব টাকা চুরি হওয়ার নেপথ্যের রহস্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এটিএম বুথে টাকা লোড দেওয়ার সময় প্রাইম ব্যাংকের রংপুর শাখার কাস্টমার সার্ভিস অফিসার মো. মোস্তাফিজ ও অফিসার আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন। তারা দুজনই ব্যাংকের পাসওয়ার্ডধারী অফিসার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভল্টে টাকা লোড দিয়ে আসছিলেন।

গত বছরের ১৭ জুন এটিএম বুথের কাস্টমারের জন্য সংরক্ষিত ডিজিটাল প্যাড অকেজো হলে এবং যা’ন্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে ঢাকা থেকে আসা প্রকৌশলীদের এনে ৪ অক্টোবর এটিএম বুথ মেরামত করা হয়। এ সময় যুগপৎ দুটি পাসওয়ার্ড দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভল্ট খুললে তিনটি ক্যাসেট চুরির বিষয় ধরা পড়ে।

তদন্তে জানা যায়, এটিএম বুথটিতে টাকা লোড দেওয়ার সময় ব্যাংক থেকে নির্ধারিত দুজন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এদের একজন ছিলেন কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজ, অপরজন আবু রায়হান। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের রংপুর শাখা থেকেই তারাই নির্ধারিত গোপন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা এবং তারাই দীর্ঘদিন ধরে ভল্টে টাকা লোড দিয়ে আসছেন।

তদন্তে আরও জানা যায়, আবু রায়হান বগুড়ায় বদলি হওয়ার পরও গত বছরের ২০ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ওই এটিএম বুথে গত বছরের ১৭ জুন বিকল হওয়ার আগ পর্যন্ত মোট তিনবার ভল্টে টাকা লোড দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রথমদিন টাকা লোড দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ ও আবু রায়হান। দ্বিতীয়বার উপস্থিত ছিলেন আবু রায়হান ও ব্যাংকের ফ্যাসিলিটিজ স্টাফ মিলন মিয়া।

তিনি এটিএম বুথে উপস্থিত হয়ে মিলন মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে সিনিয়র কর্মকর্তা ফরহাদের সঙ্গে কথা বলে ফরহাদের কাছে রক্ষিত পাসওয়ার্ডটি নেন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভল্টের দরজা খুলে টাকা লোড দেন। সর্বশেষ তৃতীয়বার ওই বছরের ৩ জুন ভল্টে টাকা লোড করার আগে কর্মকর্তা আবু রায়হান ব্যাংকের ভেতরে সিনিয়র কর্মকর্তা ফরহাদের কাছ থেকে চিরকুটে পাসওয়ার্ড লিখে নেন। পরে তিনি ৩০ লাখ টাকা বুথে নিয়ে যান এবং ভল্ট লোড দেন।

বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের বরাত দিয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, এটিএম বুথে কোনো প্রকার আঘাত কিংবা কোনো প্রকার বল প্রয়োগ ছাড়াই ভল্ট থেকে টাকার ক্যাসেট সরানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আবু রায়হান পাসওর্য়াড জানতেন।

তিনি করোনায় বদলির সুযোগে পরিকল্পিতভাবে বুথের ভল্ট থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি করেন। গ্রেপ্তারকৃত আবু রায়হানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত অন্যদেরও শনা’ক্ত করে গ্রে’প্তার ও চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.