ব্যর্থতার অভিযোগ: তবুও টিকে আছেন তাঁরা!

বাজারে জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকার পরেও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে মানুষ দিশেহারা। পেঁয়াজের দাম আবার নতুন করে বাড়ছে। গত বছর পেঁয়াজের দামের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর ধারণা করা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি না হয়।

কিন্তু এবারও পেঁয়াজের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে নতুন করে শ’ঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। করো’না মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোন দিকনির্দেশনা নেই। করো’না পরি’স্থিতি কোথায় যাচ্ছে এবং কবে শেষ হবে কিংবা কিভাবে এখান থেকে উ’ত্তরণ ঘটবে সে সম্পর্কে কোন রূপরেখা নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এরকম সরকারের বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে জনগণের ব্যর্থতার অ’ভিযোগ প্রকাশ্য হচ্ছে।

শুধু জনগণ নয়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এসব মন্ত্রণালয়গুলো নিয়ে নানারকম ব্যর্থতার অভিযোগ উত্থাপন করছেন। কিন্তু তারপরেও ব্যর্থতার অ’ভিযোগে ঐ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা বহাল তবিয়তে আছেন। বরং এসব মন্ত্রীরা তাদের ঘ’নিষ্ঠদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁরা টিকে থাকছেন। এই টিকে থাকার কারণ কি বা টিকে থাকার কৌশল কি, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন প্রশ্ন উঠেছে তেমনি প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। এই মন্ত্রিসভা গঠন ছিল একটি চমক। কারণ এই মন্ত্রিসভায় অধিকাংশ হেভিওয়েট রাজনীতিবিদদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং নতুন মুখের সংখ্যা মন্ত্রিসভায় বেশি ছিল।

অনেকেই আশা করেছিল যে, মন্ত্রিসভার এই পরিবর্তন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যারা নতুন মন্ত্রী হয়েছেন তাঁরা সরকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু ৭ জানুয়ারির পর থেকে দুটি মন্ত্রণালয় নিয়ে সরকার নানামুখী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

প্রথমেই বলা যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কথা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ব্যর্থতার কারণে সবসময় আলোচিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ডে’ঙ্গু প’রিস্থিতি তৈরি হয় এবং ডে’ঙ্গু প’রিস্থিতির সময়ে তিনি ব্যক্তিগত কারণে মালয়েশিয়া গেলেও গণমাধ্যমকে সে সম্পর্কে অবহিত করেননি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফ-কর্মকর্তারা জানান যে, মন্ত্রী মানিকগঞ্জে রয়েছেন।

এই নিয়ে বি’ভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ডে’ঙ্গু পরিস্থিতি ঢাকায় উ’দ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ডে’ঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এরপর গত মার্চ থেকে শুরু হয় করো’নার স’ঙ্কট এবং শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করো’না প’রিস্থিতি নিয়ে একের পর এক বি’ভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হন।

প্রথমে তিনি বলেন যে, বাংলাদেশে করো’না সং’ক্রম’ণের কোন সুযোগ নেই, এরপর তিনি বলেন যে বাংলাদেশে করো’নার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি পিপিই কে পিপিপি বলেন। আবার বলেন যে, ভ্যাকসিন ছাড়াই করো’না ভালো হয়ে যাবে। এই রকম একের পর এক বি’তর্কিত বক্তব্য করে আলোচিত হয়েছেন।

সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করো’না পরি’স্থিতিকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে পারে নাই। এই কথাটির প্রমাণ পাওয়া যায় যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত কর্মকাণ্ড দেখভাল শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে করো’না প’রিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিশেষ করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে করো’না মোকাবেলায় সকল করণীয় নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই দেওয়া শুরু হয়। আর এতো সব ব্যর্থতার পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বহাল তবিয়তেই আছেন। কেন তিনি আছেন- সেই প্রশ্নের উত্তরও জানা যায় না।

আবার একই রকম অ’ভিযোগ পাওয়া যায় বাণিজ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অগোছালো, সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যায়। দেখা যায় যে, গত বছর পেঁয়াজের ভ’য়াব’হ মূল্য বৃদ্ধি ঘটে। বাজার পরিস্থিতি কখনোই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল না।

এরপরও বাণিজ্যমন্ত্রী এখন পর্যন্ত ভালভাবেই রয়েছেন। এই দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যত ব্য’র্থতার অভিযোগ, অন্য মন্ত্রীদের বি’রুদ্ধে সেই রকম নেই। তারপরও এই দুই মন্ত্রী টিকে আছেন কিভাবে এই রকম প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করলে দেখা যায় মূলত তিনটি কারণে তারা টিকে আছেন।

প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সং’কটের সময়ে একটি ব্যর্থতার কারণে একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নন। এটির ফলে একটি ভুল বার্তা যায় এবং সরকারের উপর জনগণের অনাস্থা তৈরি হতে পারে। এই বিবেচনা থেকে তিনি মন্ত্রিসভায় ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও মন্ত্রীদের পরিবর্তন করেন না বলে অনেকে মনে করেন।

দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিতে চান। একজন মন্ত্রী মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করার পরই সবকিছু সফলভাবে সুষ্ঠুভাবে করবেন এই রকমটা প্রত্যাশা করা ঠিক না। প্রধানমন্ত্রী এই কারণেই তাদের ব্যর্থতা থেকে শেখার সুযোগ করে দিতে চান। সেই সুযোগের কারণেই হয়তোবা তারা এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় আছেন।

তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ। যখন একজন মন্ত্রী ব্যর্থ হন, তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওই মন্ত্রণালয় দেখভাল করা শুরু করে এবং প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর এই কারণেই এই মন্ত্রীর উপর চাপটা কমে যায় এবং তিনি শিখতে পারেন। এই কারণেই হয়তো প্রধানমন্ত্রী রদবদল করে ব্যর্থদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন না।

কারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একজন মন্ত্রীকে বাদ দিলে শুধু ওই মন্ত্রীর উপর প্রভাব পড়ে না, পুরো দল এবং সরকারের উপরও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়। আর এই কারণেই হয়তো প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থদেরকে শোধরানোর সুযোগ দিতে চান। তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*