ভদ্র, বিনয়ী আর সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবেই রিয়াদের পরিচয় !

ভদ্র, বিনয়ী আর সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবেই রিয়াদের পরিচয় !

দুই-একটি বিচ্ছিন্ন সাফল্য ছাড়া বাংলাদেশের বড় বড় জয়গুলোতে পাঁচ তারকার কারও না কারও অবদান আছেই। অনেক সময় তারা ম্যাচ জিতিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়েও। তাদের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঋণ অনেক। এই পাঁচজনের (মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ) মধ্যে একটা দিক দিয়ে ব্যতিক্রম হয়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রথম চারজনই ক্যারিয়ারে অনেকবার বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। কখনো বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তারা নিজেরা, কখনো তাদের বিতর্কে টেনেছেন অন্যরা। বোর্ডের সমালোচনা করে আলোচনায় এসেছেন, সাক্ষাৎকার দিয়েও বোমা ফাটিয়েছেন। শুধু মাহমুদউল্লাহই পার করছিলেন নিস্তরঙ্গ এক ক্যারিয়ার। পারফরম্যান্স দিয়ে আলো কেড়েছেন। আবার পারফরম না করে আঁধারেও হারিয়েছেন।

কিন্তু ব্যাট আর বল ছাড়া তাঁকে নিয়ে অন্য আলোচনা কখনো করতে হয়নি। বাকিরা অনেক সময় অন্যায়-বঞ্চনার প্রতিবাদ করে আলোচনায় এসেছেন। মাহমুদউল্লাহ তাও নন। তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে এমন কোনো দাগ নেই যেটার পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক হতে পারে। হয় তিনি ভালো খেলেছেন, অথবা খারাপ খেলেছেন। এর বাইরে আর কোনো আলোচনারই বিষয় হননি কখনো মাহমুদউল্লাহ। সেটা আসলে তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও যায় না। ব্যক্তিগত জীবনে ভদ্র, বিনয়ী আর সুশৃঙ্খল মানুষ হিসেবেই তাঁর পরিচয়।

যদি কখনো মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে অকারণ সমালোচনা হয়েও থাকে, দল থেকে তিনি অন্যায়ভাবে বাদও পড়ে থাকেন; তবু মাহমুদউল্লাহ টু শব্দটি করেননি। অন্য অনেকের মতো মিডিয়ার কানে কানে এসে বলেননি, ‘আমার সঙ্গে তো ঠিক করা হলো না! ‘ কোনো অভাব-অভিযোগ না জানিয়ে নীরবে করে গেছেন নিজের কাজ। অনেকটা বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের আত্মত্যাগী বড় ছেলের মতো। অন্যরা নানা অভাব-অভিযোগ নিয়ে কখনো সখনো সরব হলেও তাঁকে কোনো দিন বলতে শোনা যায়নি, ‘আমার এটা চাই। ওটা আমাকে দাওনি কেন? ‘

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.