ভারতকে ইলিশ দিল বাংলাদেশ, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করল ভারত

ভারতে ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ ২০১২ সাল থেকে। তবে মাঝে মধ্যেই শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ইলিশ পাঠায় বাংলাদেশ। শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে সোমবারও ১২ টন ইলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু গতকালই বাংলাদেশে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করায় বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে আটকা পড়েছে পেঁয়াজভর্তি প্রায় ১৫০টি ট্রাক। একই অবস্থা অন্যান্য স্থলবন্দরেও। ভারতের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার কিছু নীতিগত পরিবর্তন হওয়ার কারণে পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজের গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। বেনাপোল বন্দর দিয়ে সকালে ৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ প্রবেশের পরই দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের সংগঠন। বিকেলে দুই ট্রাক পদ্মার ইলিশ ভারতে রফতানি হলেও পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানি করেনি ভারত।

এর আগে কোনো কিছু না বলেই ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে ভারত। এর পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইলিশের প্রথম চালান পাঠায় সেদেশে। সে সময় বেশ কয়েক মাস ধরে এ দেশের মানুষকে ভুগিয়েছে পেঁয়াজ। পরপর দুই বছর পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ইলিশ পেয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনা।

আমদানিকারকরা বলছেন, প্রতি বছর ভারত থেকে গড়ে ১০-১৫ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি করে বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের বাজারের চাহিদার সবচেয়ে বড় যোগান। কিন্তু কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ভারতের এমন রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে গেল বছর দেশের পেঁয়াজ বাজারে তৈরি চরম অস্থিরতা। যার ফলে সেবছর ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে পেঁয়াজের দাম।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ভারত কোনো ঘোষণা ছাড়াই মূল্যবৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যে সমঝোতার বিকল্প নেই। তারা রফতানি বন্ধ না করে পেঁয়াজের আমাদানিকারকদের সময় বেঁধে দিতে পারতেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হয়নি।

এদিকে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধের খবরে নড়েচড়ে বসেছে বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থানের পেঁয়াজের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পরপরই খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০২০ সালে দেশের বাইরে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পূজা উপহার হিসেবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ১৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো যাবে। ২২ অক্টোবর, দুর্গাপূজার সপ্তমী। গতবার ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র মিলেছিল।

এবার মোট নয়টি সংস্থাকে কম করে ১৫০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা। এরই ধারাবাহিকতায়, ভারতের সাথে ‘গভীর বন্ধুত্ব’ ও ‘বাণিজ্যিক সম্পর্কের’ কারণে নিষেধাজ্ঞার ভেতরেও এবার পূজায় ১ হাজার ৪৫০ মে.টন ইলিশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার অংশ হিসেবে এবার ১২ মে.টন ইলিশ ভারতে গেল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*