ভারত-চীন উত্তেজনা: মধ্যস্ততা করবেন শেখ হাসিনা?

করোনা সঙ্কটের সময় আন্তর্জাতিক বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ভারত-চীন উত্তেজনা। লাদাখে সীমান্ত জুড়ে ভারত-চীন প্রায় যু’দ্ধাবস্থা তৈরি করেছে। আর এরকম একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব বিভক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ চীনের পক্ষ অবলম্বন করছে তো কেউ ভারতের পক্ষ অবলম্বন করছে। এখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশ্বে যে দেশগুলো এখন ভারত এবং চীন- দুই পক্ষের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে তার মধ্যে রাশিয়া একটি এবং বাংলাদেশ আরেকটি। সম্প্রতি ভারত-চীনের এই সঙ্কট নিরসনের জন্যে মধ্যস্ততা করেছে রাশিয়া। মস্কোয় এসসিও সম্মেলনে সাইডলাইনে রাশিয়ার মধ্যস্ততায় ভারত এবং চীনের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই সমঝোতা কতটুকু বাস্তবে রূপায়িত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ দুই পক্ষই আসলে এই সঙ্কটটি নিয়ে যার যার অবস্থানে অনড়। সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ধারণা করা হয় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের যে সুসম্পর্ক,

সেই সুসম্পর্কে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা এবং বড় বড় প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশীদার হয়েছে চীন। এটাতে ভারত কিছুটা হলেও উ’দ্বিগ্ন বলেই কূটনৈতিক মহল মনে করছেন এবং শ্রিংলার ঢাকা সফরের অন্যান্য কারণের মধ্যে এটি একটি কারণ এটা হতে পারে বলে মনে করেন কূটনীতিকরা।

একই সময়ে আরেকটি ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা দূতাবাস বেগম খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিনে উপহার পাঠিয়েছিল। এই ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চরম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয় এবং এই প্রতিক্রিয়ার কারণে ব্যাপারটি চীনের পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যন্ত গড়ায় এবং পরবর্তীতে চীনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

অর্থাৎ এই ঘটনাটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে, তা হলো ভারত এবং চীন দুটি দেশই বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়। ভারত এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ ভারসম্যপূর্ণ এবং সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। কারো আনুগত্য বা কারো কৃপা লাভের কূটনীতি বাংলাদেশ করেনা- এই দুই ঘটনা তা প্রমাণ করেছে।

এই কারণে কূটনীতিক মহল মনে করছে যে, যদি শেষ পর্যন্ত মস্কো সমঝোতা উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে যায় এবং ভারত-চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে যদি মস্কো ব্যর্থ হয় তাহলে একমাত্র ভরসা থাকবে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কারণ কূটনীতিক মহল মনে করছে যে, কূটনীতিতে এই ধরণের সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো বিশ্বাসযোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব এবং ভাবমূর্তি। আর এই তিনটি ক্ষেত্রেই শেখ হাসিনা অনেক এগিয়ে। কারণ শেখ হাসিনা বিশ্বরাজনীতিতে একটি বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি যা বিশ্বাস করেন তা বলেন এবং সেটা বাস্তবায়িত করেন।

প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো মুখে একটি কথা, কাজে অন্যরকম- এই ধরণের কৌশলে বিশ্বাস করেন না শেখ হাসিনা। যার ফলে শেখ হাসিনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ তিনি যেটা বিশ্বাস করেন তা স্পষ্টভাবে বলেন এবং সেটা বাস্তবায়ন করতে কোনরকম দ্বি’ধাবোধ করেন না।

দ্বিতীয়ত, আস্থা। শেখ হাসিনার উপরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সকলেই আস্থা রাখেন কারণ তিনি একজন দক্ষ, পরিশ্রমী এবং বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁর দূরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতা এখন সারাবিশ্বে প্রশংসিত।

তৃতীয়ত, তিনি সবসময় ন্যায্যতার পক্ষে কাজ করেন। আর একারণে শেখ হাসিনা শুধু উপমহাদেশ নয়, বিশ্ব নেতা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আর তাই ভারত-চীন সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে একজন ভালো মধ্যস্ততাকারী হতে পারেন শেখ হাসিনা।

কারণ দুই সরকারের কাছেই তিনি আস্থাভাজন, দুই সরকারই শেখ হাসিনাকে ভালো মতন জানেন এবং শেখ হাসিনার ন্যায়-নিষ্ঠা সম্পর্কে অবহিত। কাজেই দুই দেশের জন্যে শেখ হাসিনা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই কারণে শেখ হাসিনা যদি উদ্যোগ নেন তাহলে ভারত-চীন সঙ্কটের জটিলতাগুলো সহজেই কেটে যেতে পারে।

উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ভারতের সঙ্গে ছিটমহল, সমুদ্রসীমা, মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা স’ঙ্কট শান্তিপূর্ণভাবেই মী’মাংসা করেছেন। কাজেই শেখ হাসিনার শান্তির দর্শনের মাধ্যমে ভারত-চীন স’ঙ্কটের সমাধান হতে পারে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনেক কূটনীতিবিদই। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *