মুমিনুল নিলেন ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে রিভিউ’

টেস্টে চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় সেশনে ১৩০ রানে পিছিয়ে ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে তখন ব্যাট করছে নিউজিল্যান্ড। এখান থেকে যেকোনো কিছুই হতে পারে। সুযোগ যেমন লুফে নিতে হবে, তেমনি অপব্যবহারও করা যাবে না। না হলে পরে পস্তানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। দেখা যাবে, খুব দরকারের মুহূর্তে রিভিউ নেওয়ার সুযোগ নেই। এ কথা অধিনায়ক মুমিনুল হকের মনে ছিল?

দ্বিতীয় সেশনে ২টি উইকেট নিলেও দুটি রিভিউ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। সেখান থেকে শিক্ষা নিলেও নাহয় মানা যেত। শেষ সেশনের অষ্টম ওভারেও সেই একই ভুল! এবারে একদম হাস্যকর রিভিউ। ভিডিও রিপ্লে দেখাতেই ধারাভাষ্যকক্ষে হাসির রোল উঠল। বাংলাদেশের এবার তৃতীয় রিভিউটাও নষ্ট! নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে আর রিভিউ নেওয়ার সুযোগ নেই মুমিনুলের। শুধু কি তা–ই, রিভিউ নষ্টের এই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হয়ে পড়ল ক্যাচও, রস টেলরের!

শেষ সেশনের ১৩তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে মিড উইকেট দিয়ে তুলে মারেন টেলর। সাদমান অবিশ্বাস্যভাবে ক্যাচটি নিতে পারেননি। বলের নিচে থেকেও হাতে রাখতে পারেননি। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসেও ক্যাচ ছেড়েছেন সাদমান। তবে টেলরের ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ার মাশুল দিতে হতে পারে। উইকেটে স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠছেন দেশের হয়ে শেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা টেলর।

সেই হাস্যকর রিভিউতে ফেরা যাক। তাসকিনের করা শেষ সেশনের অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ তৃতীয় রিভিউটি নষ্ট করে। ফুল লেংথের বলটি টেলর স্পষ্ট ব্যাটে খেললেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা আবেদন করেন। স্বাভাবিকভাবেই এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দেননি। কিন্তু বল টেলরের পায়ের পাতায় লাগতে পারে ভেবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা রিভিউ নিতে উতলা হয়ে ওঠেন। স্টাম্প মাইকে স্পষ্ট শোনা গেছে, ‘ভাই নেন, নেন…।’ মুমিনুল রিভিউ নেওয়ার পর ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটা সরাসরি ব্যাটেই খেলেছেন টেলর। ধারাভাষ্যকক্ষের পাশাপাশি জায়ান্ট স্ক্রিনে তা দেখে হাসির রোল ওঠে গ্যালারিতেও। টুইটারে বলাবলি হচ্ছে, ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে রিভিউটিই কি নিলেন মুমিনুল!

দ্বিতীয় সেশনে এবাদতের বলে একবার উইল ইয়াং লেগে খেলার চেষ্টা করলে বল তাঁর কোমরে লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে। আউটের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নেন মুমিনুল। লিটন দাস ও এবাদতের অতি আগ্রহী হয়ে ওঠা তাতে ভূমিকা রেখেছে। ২৯তম ওভারে ঠিক একইভাবে রস টেলরের বিপক্ষেও রিভিউ নিয়ে লাভ হয়নি বাংলাদেশের। এবারও অতি আগ্রহী ছিলেন খেলোয়াড়েরা। বিশেষ করে উইকেটকিপার লিটনের স্পষ্ট বোঝার কথা বল ব্যাটে না অন্য কোথাও লেগেছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.