যে ইউনিয়নের নারীরা ভোট দেন না!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটারদের ভোট প্রদানে আগ্রহী করতে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (০১ জানুয়ারি) সকালে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কোরআন ও হাদীসের আলোকে নারীদের ভোট প্রদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইউনুস হোসেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা কোনো নির্বাচনেই তাদের ভোট প্রয়োগ করেন না। আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি কোনো আলেম নারীদের ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন না। পর্দা রক্ষা করে নারীদের ভোট প্রদান ধর্মের সাথে সাংঘ’র্ষিক নয়।

তিনি বলেন, নারীরা ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকলে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। অযোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে ধর্মীয়ভাবে নারীরাও দায় এড়াতে পারবেন না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে নারীদের ভোট প্রদান করতে হবে। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ। তিনি বলেন, ভোট প্রদান প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাপার।

শুধু তাই নয়, এটি মৌলিক অধিকারও বটে। তবে নারীর ভোটপ্রদানে কেউ বাধা দেয়, তাহলে পুলিশ বসে থাকবে না। প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ হোসেন, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস্কান্দার মিয়া প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নারীরা ষাটের দশক থেকে যে কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন বিগত ৬০ বছর আগে সেখানে বসবাসকারী ভারতের জৈনপুরের পীর প্রয়াত মাওলানা মওদুদুল হাসান নারীদের ভোটদানে নিষেধ করেছিলেন। সেখানে মুসলিম, হিন্দু নারীদের সঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নারীরাও বসবাস করছেন।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক আগে এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দেয়। তখন অসংখ্য মানুষ কলেরা, ডায়রিয়া ও বসন্তে আক্রান্ত হন। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে আক্রান্তসহ স্থানীয়রা ওই পীরের কাছে দোয়ার জন্য যান। কিন্তু পরবর্তীতে ভোটের সময় সুবিধাবাদী প্রার্থীরা পীরের প্রকৃত কথা আড়াল করে বিকৃত তথ্য প্রচার শুরু করে। সেই থেকে এখনো এমন ধারা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে মোট ভোটারের অর্ধেক হচ্ছেন নারী ভোটার। আগামী ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এই ইউনিয়নে তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১০ জন নারী প্রার্থীসহ চেয়ারম্যান, সদস্য পদ মিলিয়ে শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.