যে কারণে দেশে ফিরতে ভয় পান তাঁরা!

বাংলাদেশের বিভিন্ন সময় দু’র্দান্ত অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা দেশে ফিরতে ভয় পায়। এদের কারো কারো বিরুদ্ধে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দ’ণ্ডাদেশসহ নানা রকম দণ্ড রয়েছে। এই দ’ণ্ড এড়ানোর জন্য তারা দেশে আসছেন না। অনেকের দ’ণ্ড নেই, কিন্তু তারপরও তারা অ’জ্ঞাত কারণে দেশে আসতে ভয় পাচ্ছেন।

যারা স্বে’চ্ছায় বিদেশে নির্বাসিত আছেন, তারা কেন আছেন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট একটি নৃ’শং’সতম ঘ’টনা। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে যারা হ’ত্যার চে’ষ্টা করেছিল তাদের অনেকের বিচার হয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদেরকে দেশে নিয়ে এসে দ’ণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে দুর্দান্ত ক্ষমতাবান ছিলেন হারিছ চৌধুরী। হারিছ চৌধুরী এখন বিদেশে পালিয়ে আছেন। তিনি একাধিক মা’মলায় দ’ণ্ডিত। খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব ড. কামাল সিদ্দিকীও মালয়েশিয়াতে পলাতক জীবন যাপন করছেন। তিনিও দু’র্নীতির মা’মলায় দ’ণ্ডিত হয়েছেন।

এছাড়াও ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রচণ্ড ক্ষমতাবান মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী – এরা প্রত্যেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন। যু’দ্ধাপ’রাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর তাদের সন্তানদের কেউ কেউ এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন দ’ণ্ড নেই।

কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় ক্ষমতাবান অন্তত ৩ জন যারা বিদেশে অবস্থান করছেন। যাদের বি’রুদ্ধে কোন অ’ভিযোগ দ’ণ্ড নেই। কিন্তু তারপরও তারা বিদেশে অবস্থান কেন করছেন সেই প্রশ্ন বিভিন্ন সময় ওঠে। এদের মধ্যে রয়েছেন জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন।

ওয়ান ইলেভেনে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারকে ক্ষমতায় আনার পেছনে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে সাবেক ওই সেনাপ্রধান ছিলেন অন্যতম। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরও তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারে সেনা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এরপর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান। এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কেই অবস্থান করছেন। কেন তিনি এখনো বিদেশে অবস্থান করছেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, মঈন ইউ আহমেদ ক্যা’নসারে আ’ক্রা’ন্ত। সেখানে তিনি ক্যা’নসারের চিকিৎসা করছেন।

দ্বিতীয়ত মঈন ইউ আহমেদ- ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৭ সালের আগস্টে এক অনভি’প্রেত ঘ’টনা ঘটে। সেই ঘ’টনার শি’কার হিসাবে শিক্ষক এবং ছাত্রদের আ’ন্দোলনের সূচনা হয়। ওই আ’ন্দোলনের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে গ্রে’প্তার করা হয়, তাদের দ’ণ্ডিত করা হয়েছিলো।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সংসদীয় কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘ’টনার ত’দন্ত শুরু করে। তদ’ন্তের এক পর্যায়ে মঈন ইউ আহমেদ এবং ফখরুদ্দীন আহমেদকে সংসদীয় কমিটি তলব করে। এর পরপরই মঈন ইউ আহমেদ বাংলাদেশ থেকে চলে যান এবং এখনো তিনি বিদেশেই আছেন।

বাংলাদেশে থাকলে ঝা’মেলা হতে পারে এ কারণেই তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অনেকে মনে করেন। আবার মঈন ইউ আহমেদের ঘ’নিষ্ঠরা বলছেন, তিনি মনে করেন যে বাংলাদেশে থাকলে বিএনপির আ’ক্রোশের শি’কার হতে পারেন। এজন্য তিনি বিদেশে থাকাকে নিরাপদ মনে করছেন।

ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ ছিলেন ওয়ান ইলেভেনে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ডধারী। তত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি নিভৃত জীবন যাপন করছেন বলেই জানা গেছে।

যদিও তার বি’রুদ্ধে কোন অ’ভিযোগ বা তাকে নিয়ে কোন সমালোচনা নেই, তারপরও তার ঘনিষ্ঠরা মনে করেন যে, বিএনপি তার ওপর অ’সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি কোন ঝা’মেলায় জড়াতে চান না বলেই তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সরকারে ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট এই ব্যক্তিটি সরকারের দায়িত্ব ছেড়েই সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান। তিনি সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে সাউথ এশিয়ান স্টাডিজে অধ্যাপনা করছেন। সেখানেই তিনি অবস্থান করেন। পেশাগত কারণেই সেখানে তিনি অবস্থান করছেন বলে জানা যায়।

আওয়ামী লীগের সময় প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষ’ড়য’ন্ত্র এবং বিচার বিভাগীয় ক্যু করার অভি’যোগ উঠেছিল সিনহার বিরুদ্ধে। প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় তিনি অনেক বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে দু’র্নীতির অ’ভিযোগ ওঠার পর তিনি প্রথমে অস্ট্রেলিয়া, সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করছেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক আশ্রয় এখনো বিবেচিত হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে বাংলাদেশে আসলে তিনি আ’ক্রা’ন্ত হতে পারেন, তার বিরুদ্ধে মাম’লা হতে পারে, তাকে জেলে যেতে হতে পারে এ কারণে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এরকম বেশ কয়েকজন ব্যক্তি আছেন যারা বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরতে তাদের এক ধরণের আ’ড়ষ্টতা কাজ করে। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *