যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ তালেবান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তালেবান। তাদের অভিযোগ, সদ্য ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজ উদ্দিন হাক্কানিকে ‘কালো তালিকায়’ রেখে যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের দোহা চুক্তির লঙ্ঘন করছে। আফগানিস্তানের হাক্কানি নেটওয়ার্ক তালেবানের ঘনিষ্ঠ একটি অংশ।

হাক্কানি নেটওয়ার্ক থেকে তালেবান সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০ জন মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ওপর হা’ম’লার অভিযোগ রয়েছে। সিরাজ উদ্দিন হাক্কানিকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ সালে ৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। জাতিসংঘের কালো তালিকায়ও সিরাজ উদ্দিন হাক্কানির নাম রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র অফিসিয়ালি মন্তব্য করেছে ‘হাক্কানি নেটওয়ার্কের কিছু সদস্য এবং তাদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় এবং এখনও তারা টার্গেটে রয়েছে’। ইসলামিক আমিরাত এটাকে দোহা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন মনে করে।

২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি শান্তি চুক্তি করে। এই চুক্তির শর্ত ছিল- তালেবান আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। চুক্তি অনুসারে, গত মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করলে তালেবান ক্ষমতা দখলের পথে অগ্রসর হতে থাকে।

গত ১৫ আগস্ট তারা কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে। গত সোমবার তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে। কাবুল থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক শার্লট বেলিস বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে হাক্কানি পরিবার এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লাকলিস্টে’ মন্তব্য করার পর তালেবান এই বিবৃতি দিয়েছে।

আল জাজিরার এই সাংবাদিক বলেন, তালেবান মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মন্তব্য উসকানিমূলক হিসেবে দেখছে। তারা এটার নিন্দা জানিয়ে হাক্কানি পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের এই বিবৃতির পর, যুক্তরাষ্ট্র কী প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটা এখন দেখার বিষয়।

Sharing is caring!