যে কারনে ৮ বছর আগের টুইটের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইংল্যান্ডের পেসার

অভিষেক ম্যাচে দারুন খেলে প্রশংসা পাওয়ার বিপরিত তিরস্কার পাচ্ছেন ইংল্যান্ডের এই পেসার। লর্ডসে অভিষেক, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে পা রাখার দিনে দুই উইকেট নিয়ে দলের সবচেয়ে সফলতম বোলার ওলি রবিনসন।

ইংল্যান্ড স্বস্তি না থাকলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে কিছুটা তৃপ্তির ঢেকুর গিলতেই পারতেন ডানহাতি এই পেসার। টেস্ট আঙিনায় পা রাখার দিনে অনেকটা প্রশংসার আলোচনা শোনার প্রত্যাশা করেছিলেন ২৭ বছর বয়সি এই পেসার।

যদিও প্রথম দিনের খেলা শেষ হতেই ঘটেছে উল্টো ঘটনা। প্রশংসার পরবর্তীতে প্রায় ৮ বছর আগের বর্ণবাদী ও ‘সেক্সিস্ট’ টুইটের জন্য বিপাকে পড়তে হয়েছে রবিসনকে। ডানহাতি এই পেসারের পুরনো টুইট নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে পরবর্তীতে সেই সব টুইটের জন্য ক্ষমা চান তিনি।

লর্ডসে অভিষেকের প্রথম দিনে দলের অভিজ্ঞ পেসাররা সুবিধা করতে না পারলেও ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন রবিনসন। নিউজিল্যান্ডের দলীয় ৫৮ রানের সময় টম লাথামকে ফিরিয়ে ইংলিশদের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন তিনি। এরপর সাজঘরে ফিরিয়েছেন অভিজ্ঞ রস টেলরকে।

মাঠের ক্রিকেটে দাপুট দেখালেও বিপাকে পড়তে হয়েছে ৮ বছর আগের পুরনো টুইট নিয়ে। ডানহাতি এই পেসার যখন লর্ডসে নিজের স্বপ্নের পথে ছুঁটে চলছেন তখন তাঁর ৮ বছরের পুরনো টুইট নিয়ে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

রবিনসনের সেই টুইটগুলো সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত, এশিয়ান বংশোদ্ভূত ও নারীদের প্রতি ছিল অবমাননাকর মন্তব্য। যদিও দিনের শুরুতে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে যৌনবৈষম্যসহ ক্রিকেটে সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তবে নিজের পুরনো টুইটের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এই পেসার। সেই সঙ্গে রবিনসন দাবি করেছেন যে, তিনি বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট নন। এ প্রসঙ্গে রবিনসন বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দিনটিতে আমি বিব্রত আট বছর আগের বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট টুইটের জন্য, যা আজকে প্রকাশ্য হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমি বর্ণবাদী ও সেক্সিস্ট নই। নিজের কাজের জন্য আমি ভীষণভাবে অনুতপ্ত ও এমন মন্তব্যের জন্য লজ্জিত।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার সতীর্থরা ও সামগ্রিক ক্রিকেট খেলাটায় যারা আমার মন্তব্যে আহত হয়েছেন

বিশেষ করে এমন এক দিনে যেদিন আমরা খেলাটায় বৈষ্যম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি ও সচেতনতা তৈরি করছি, তাদের সবার কাছে আমি অকপটে ক্ষমা চাইছি। ২০১২ কিংবা ২০১৩ সালে রবিনসনের বয়স ছিল ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

সেই সময় তিনি লেস্টারশায়ার, কেন্ট ও ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।যদিও এটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না রবিনসন।

সেই সময়ের পর থেকে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সঙ্গে যথেষ্ঠ পরিণত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ডানহাতি এই পেসার। রবিনসন বলেন, ‘আজকের দিনটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আমার অভিষেক ও মাঠের ক্রিকেট নিয়ে।

কিন্তু আমার অতীতের হঠকারী মন্তব্য সেটিকে বিবর্ণ করে তুলেছে। আমি অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিলাম এবং তখন আমার মানসিক অবস্থা যেমনই থাকুক, তা কোনো অজুহাত হতে পারে না।’তিনি আরও বলেন, ‘তবে ওই সময়ের পর আমি মানুষ হিসেবে পরিণত হয়েছি ও ওই টুইটগুলোর জন্য পুরোপুরি দুঃখপ্রকাশ করি।

গত কয়েক বছরে জীবনকে নতুনভাবে গড়তে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং যথেষ্ট পরিণত হয়েছি বলে মনে করি।’ক্ষমা চাইলেও সহসায় পার পেয়ে যাচ্ছেন না রবিনসন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সেই সঙ্গে ইসিবির এই প্রধান নির্বাহী বৈষম্যের বিরুদ্ধে নিজেদের জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা জানান দিয়ে ডিসিপ্লিনারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে হ্যারিসন বলেন, ‘আমি কতটা হতাশ সেটা প্রকাশের জন্য কোন শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না যে ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের একজন ক্রিকেটার টুইট করার জন্য এরকম কিছু বেছে নিয়েছে, সেটা যত আগেরই হোক। এই শব্দগুলো পড়ার যে কোন ব্যক্তি, বিশেষ করে মহিলা কিংবা বর্ণের ব্যক্তি হোক

ক্রিকেট বা ক্রিকেটারদের কাছে থেকে এমন চিত্র অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর চেয়েও ভালো। যে কোন বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অবস্থান রয়েছে এবং এই ধরনের আচরণ পরিচালনা করার জন্য আমাদের নিয়ম রয়েছে। আমরা ডিসিপ্লিনারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি তদন্ত শুরু করব।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.