যে গ্রাম থেকে জন্ম তালেবানের!

আফ’গানি’স্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কা’ন্দাহার প্রদেশের ঝারি জেলার একটি গ্রাম সা’ঙ্গেসার। ১৯৯৪ সালে এই গ্রাম থেকেই তালেবা’ন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন মোল্লা মোহাম্মদ ওমর। কান্দাহার শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে বর্তমানে প্রায় তিন শ’ পরিবার বাস করে। ১৯৮৭ সাল থেকে এই গ্রামের মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মোল্লা ওমর। একইসাথে তিনি গ্রামটির মাদরাসায় শিক্ষকতাও করেছেন।

গ্রামের মাদরাসাতেই অল্প কিছু সঙ্গী ও ছাত্রদের নিয়ে তালেবান গঠন করেন মোল্লা ওমর। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি প্রথম সংবাদমাধ্যম হিসেবে সাঙ্গেসার গ্রামের চিত্র ধারণ করেছে। বর্তমানে সাঙ্গেসার গ্রামে তা’লেবানের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে।

এই চার স্থাপনার মধ্যে মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের বাড়ি, গ্রামের মসজিদ, মাদরাসা এবং তা’লেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের বাড়ি। গ্রামবাসীরা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লার জেরে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের পর মোল্লা ওমরের বাড়িতে তিন দফা বিমান হা’ম’লা চালানো হয়।

বিমান হা’ম’লায় বি’ধ্বস্ত মোল্লা ওমরের বাড়ির বর্তমানে শুধু বাগানের একটি দেয়ালই দাঁড়িয়ে আছে। তা’লেবানের সূচনা হওয়া মাদরাসাটিও মার্কিন হা’ম’লায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তবে এর কিছু দেয়াল এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মোল্লা ওমরের ইমামতি করা গ্রামের মসজিদটিতে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। মসজিদের কাছেই তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও দলের বর্তমান রাজনৈতিক দফতরের প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের বাড়ি।

এই বাড়িতেই মোল্লা আবদুল গনি বারাদার জন্ম নেন ও বেড়ে ওঠেন। মোল্লা ওমরের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এখনো এই স্থাপনাগুলো পাহারা দিয়ে আসছে তালেবান যোদ্ধারা। দীর্ঘ আ’গ্রা’সন ও যু’দ্ধে এই অঞ্চলের বিপুল তা’লেবান সদস্য ও বেসামরিক লোক নি’হ’ত হন।

আনাদোলু এজেন্সিকে তালে’বানের উত্থান সম্পর্কে জানান গ্রামের বাসিন্দা ও মোল্লা ওমররের জীবিত স’ঙ্গীরা। মোহাম্মদ হাশিম হাশেমি বলেন, ‘তা’লেবান যখন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মাত্র তিনটি ভারি অ’স্ত্র ছিলো। কান্দাহারের মিওয়ান্দ জেলার এক স্কুলে প্রথম হা’ম’লার সাথে আমি যুক্ত ছিলাম।’

অপর এক বাসিন্দা মৌলভি মুহাম্মদ শাহ আখুন্দ ওই হামলা সম্পর্কে বলেন, ‘মিওয়ান্দ জেলার একটি স্কুলকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা এক সশ’স্ত্র দলের বিরুদ্ধে আমরা এক শ’ লোক প্রথম হা’ম’লা চালাই ও স্কুলটি দখল করে নেই।’ তিনি বলেন, এই হামলার পরেই তা’লেবানের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটির সদস্য সংখ্যা পাঁচ শ’ পার হয়ে যায়। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.