শাস্তির হাত থেকে বেঁচে গেল কোহলিরা

শেষ পর্যন্ত কোন শাস্তি হচ্ছেনা টিম ইন্ডিয়ার। ডিআরএস নিয়ে মাঠে যে আচরণ করেছে কোহলিরা, তার কোনও রেকর্ড রাখছে না আইসিসি। শুধু সতর্ক করা হয়েছে তাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রিভিউ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

ভারতীয় উইকেটকিপার রিশভ পন্তের সেঞ্চুরিতে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর পর বল হাত একটি উইকেট পাওয়ার জন্য তখন ছটফট করছিল ভারত। যশপ্রীত বুমরা কিংবা মোহাম্মদ শামিরা কিছুতেই টলাতে পারছিল না ডিন এলগারকে। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো আবার তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।

এমন সময়ই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদন করে ভারত। হাত উঁচিয়ে আউটও দিয়ে দেন আম্পায়ার। তারপরই শুরু হয় নাটক। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ নেন এলগার। সেখানে দেখা যায় বল এলগারের পা ছুঁলেও উইকেটের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। উইকেটে লাগার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না বলের। তৃতীয় আম্পায়ার নির্দেশ দেন সিদ্ধান্ত বদল করার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে কোহলিদের মধ্যে বিরক্তি ফুটে ওঠে।

সে সময় স্টাম্প মাইকের কাছে গিয়ে কথা বলতে দেখা যায় ভারতীয় ফিল্ডারদের। কোহলি বলেন, ‘দারুণ ডিআরএস, খুব ভালো খেলেছো।’ এদিকে লোকেশ রাহুল বলেন, ‘গোটা দেশ ১১ জনের বিপক্ষে খেলছে।’ পরে কোহলি আবার বলেন, ‘তোমাদের দল যখন বল পালিশ করে, তখন তাদের ওপরেও ক্যামেরা তাক করো।

শুধু বিপক্ষ খেলোয়াড়দের ওপর নয়।’ পরে কোহলিকে স্টাম্প থেকে দূরে সরে যাওয়ার সময় এও বলতে শোনা যায় যে, ‘ব্রডকাস্টাররা এভাবেই অর্থ উপার্জন করে।’ বারবার এমন মন্তব্যের কারণে অনেকেই ভেবেছিল শাস্তির মুখে পরতে যাচ্ছে ভারতের বেশ কিছু ক্রিকেটার। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভনের মতে, এ ধরনের ঘটনাতে আইসিসির নজর দেওয়া উচিত যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা আর ঘটতে না পারে।

তবে তা হয় নি। ভারত অধিনায়ক এবং তাঁর দলকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর ফলে ২-১ সিরিজ জিতল প্রোটিয়ারা। ফলে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাঠে টেস্ট সিরিজ জেতা হলনা টিম ইন্ডিয়ার।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.