শেখ হাসিনার সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ৫ ইস্যু

করো’না সং’কটকালে একাই লড়ছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেমন দায়িত্ব পালন করছেন, তার দায়িত্বের বাইরে গিয়েও প্রতিটা বিষয়ে তিনি খুঁটিনাটি দেখভাল করছেন, যেন কোন কারণেই জনগণের কষ্ট না হয়। একদিকে তিনি যেমন অর্থনৈতিক সং’কট মোকাবেলার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন বিষয়গুলোর ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বাইরে ৫টি বিষয়ে শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই সকল বিষয়ে সার্বক্ষণিকভাবে যেন তাকে আপডেট করা হয়। প্রতিনিয়ত এই বিষয়গুলো যেন মনিটরিং করে তাকে রিপোর্ট প্রদান করা হয়। যে বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছে তারমধ্যে রয়েছে..

সিনহা হ’ত্যা ত’দন্ত: ঈদের আগের দিন ৩১ জুলাই পু’লিশের গু’লিতে নি’হ’ত হন সাবেক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সি’নহা মোহাম্মদ রাশেদ। টে’কনাফের মে’রিন ড্রা’ইভ পয়েন্টে তার হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এই ঘ’টনা বিভিন্ন মহলে তীব্র প্র’তিক্রিয়া তৈরি করেছিল। আর এর পর পরই প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন।

তিনি সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রধানকে ঘট’নাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই ঘ’টনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সিনহা পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছে যে, সি’নহা হ’ত্যায় যে ত’দন্ত ও ঘ’টনা প্রবাহ সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিনিয়ত আপডেট করছেন।

ইউএনও ওয়াহিদার ঘ’টনা: সি’নহা হ’ত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম দু’র্বৃত্তদের দ্বারা আ’ক্রা’ন্ত হন। দুর্বৃ’ত্তরা তার বাসায় প্রবেশ করে তাকে এবং তার পিতাকে নি’র্ম’মভাবে আ’ক্রম’ণ করে। এটি স্পষ্ট যে, এটি হ’ত্যা চেষ্টা। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ওয়াহিদাকে দ্রুত ঢাকার বিশেষায়িত নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। এখন তিনি শ’ঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওয়াহিদার আ’ক্রম’ণের দুটি দিকই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। একটি দিক হল, ওয়াহিদা এবং তার পিতার সুচিকিৎসা করা। আরেকটি দিক হল এই ঘ’টনার নেপথ্যে যারা আছে তাদের খুঁজে বের করা এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

এটি নিয়ে যেন কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শি’কার করতে না পারে সেটির দিকে কঠোর নজর রাখা। বিশেষ করে এই ঘ’টনাকে পুঁজি করে প্রশাসনের মধ্যে যেন কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওয়াহিদার ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এই ব্যাপারে যেন তদ’ন্তে কোন গা’ফিলতি না হয় এবং দ্রুত যেন তদন্ত করে অপ’রাধীরা আইনের আওতায় আসে সে ব্যাপারে তিনি নজরদারি রাখছেন।

শুদ্ধি অভিযান: করো’না সং’কটের মধ্যেও আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযানকে শেখ হাসিনা অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। করোনা সংকটের সময়ই ফরিদপুরে বড় ধরণের শুদ্ধি অভিযান হয়েছে। এই শুদ্ধি অভিযানের বিষয়টি এমনভাবে হয়েছে যে,

শেখ হাসিনা ছাড়া ঊর্ধ্বতন অনেক বড় বড় কর্মকর্তারাও এই অভিযানের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। একইভাবে দেশের অন্যান্য জায়গায় শুদ্ধি অভিযান হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এককভাবে শেখ হাসিনার সার্বক্ষণিক তদারকি ও নজরদারিতে শুদ্ধি অভিযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: করোনা সংকটের সময় বিভিন্ন দুর্নীতি অভিযোগে যারা অভিযুক্ত তাদের বিচার এবং তাদের নেপথ্যে যারা আছেন তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে পরিচালিত হচ্ছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে শেখ হাসিনার একক নজরদারিতে এবং পরামর্শ হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

কারণ দেখা যাচ্ছে যে, অনেক সময় অনেক খবর বেরিয়ে যায় এবং তার ফলে দুর্নীতিবাজরা পালানোর পথ পায়, নানা রকম দেনদরবার করে। এসব বন্ধের জন্য এবার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অনেক কঠোর গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে। শেখ হাসিনা ছাড়া খুব কম কর্মকর্তাই এ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানছেন। ফলে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানটা কার্যকর হচ্ছে। প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা সহজ হচ্ছে।

ভ্যাকসিন: প্রধানমন্ত্রীর এখন আরেকটা অগ্রাধিকারের বিষয় হল ভ্যাকসিন। বিশ্বের যে দেশগুলো ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে, সে দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং পৃথিবীর যেখানেই ভ্যাকসিন উৎপাদিত হোক না কেন- বাংলাদেশ যেন সেই ভ্যাকসিন সবার আগে পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, তহবিল তৈরি করা হয়েছে এবং ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যেন বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পায় তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কারণে এই বিষয়গুলো এখন ক্রমশ ইতিবাচক পথে হাঁটছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*