শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০তে নিউজিল্যান্ডকে ৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো টাইগাররা। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৩৭ রানেই থেমে যায় ব্ল্যাকক্যাপসদের ইনিংস। অবশ্য জয়টা এত সহজে আসেনি। শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৬ রান।

মুস্তাফিজের করা বলটিতে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি লাথাম। নিউজিল্যান্ডের হয়ে রান তাড়া করতে নামেন টম ব্লান্ডেল ও রাচীন রবীন্দ্র। তৃতীয় ওভারে সাকিব আসা মাত্রই তাকে ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক শুরুর বার্তা দিয়েছিলেন রবীন্দ্র। কিন্তু পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন টাইগার অলরাউন্ডার।

১০ রানে রবীন্দ্র আউট হওয়ার পরের ওভারে আরেক ওপেনার ব্লান্ডেলকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মাহেদী হাসান। এরপর ৪৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন উইল ইয়ং ও টম লাথাম। ২২ রান করা ইয়ংকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ৮ রানের বেশি করতে দেননি নাসুম আহমেদ।

এরপরই মাহেদী হাসানের বলে আউট হন হেনরি নিকোলস। দুই ব্যাটসম্যানকেই তালুবন্দী করেন মুশফিকুর রহিম। একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া অধিনায়ক টম লাথাম ৩৮ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন। তবে অন্য প্রান্তে তেমন সহায়তা পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন নাঈম শেখ ও লিটন দাস। দ্বিতীয় ওভারেই কোল ম্যাককনির বলে কলিন ডি গ্রান্ডহোমের কাছে জীবন পান লিটন। সুইপ করতে গিয়ে সোজা গ্রান্ডহোমের হাতে বল দিয়েছিলেন তিনি।

তবে কিউই অলরাউন্ডার সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আজাজ প্যাটেলের পরের ওভারে দুটি বাউন্ডারি হাঁকান এই ওপেনার। নাঈম ও লিটনের উদ্বোধনী জুটি বেশ ভালোভাবেই এগোতে থাকে। দুজনের হাত ধরে দীর্ঘদিন পর টি-২০তে অর্ধশতাধিক রানের জুটির দেখা পায় বাংলাদেশ।

রাচীন রবীন্দ্রর বলে সিংগেল নিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে লিটন দাস বোল্ড হয়ে গেলে ভাঙে দুজনের ৫৯ রানের জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৯ বলে ৩৩ রান করেন লিটন। পরের ডেলিভারিতেই মুশফিকুর রহিমকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন রবীন্দ্র। মিস্টার ডিপেন্ডেবল ফিরে যান কোনো রান না করেই।

সাকিব আল হাসানও ব্যাট হাতে এদিন ব্যাট হাতে বেশি কিছু করতে পারেননি। ম্যাককনির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে অভিষিক্ত বেন সিয়ার্সের তালুবন্দী হন তিনি। এর আগে করেন ৭ বলে ১২ রান। অল্প সময়ের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক রিয়াদ ও নাঈম। দুজনে মিলে গড়েন ৩৪ রানের জুটি।

ফিফটির সুবাস পেলেও ৩৯ রানের বেশি করতে পারেননি নাঈম। রবীন্দ্রকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে টম ব্লান্ডেলের তালুবন্দী হন তিনি। আফিফ হোসেন এ ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন। তিনি ৩ বলে করেন ৩ রান। শেষ দিকে রিয়াদ ঝড়ে ভালো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

টাইগার অধিনায়ক ৩২ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে নুরুল হাসান সোহান করেন ১৩ রান। কিউইদের হয়ে রবীন্দ্র ৩টি এবং আজাজ প্যাটেল, ম্যাককনি ও হামিশ বেনেট একটি করে উইকেট শিকার করেন।সিরিজের তৃতীয় টি-২০তে আগামী রোববার মুখোমুখি হবে দুই দল।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.