সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের আপত্তির জবাব দিলো বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত সরকার জাতিসংঘে যে আপত্তি জানিয়েছে, পাল্টা চিঠিতে তার জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ যে সমুদ্রসীমা দাবি করেছে তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আপত্তি জানিয়েছিল ভারত।

বাংলাদেশ সরকার তার জবাবে বলেছে, ভারত যে আপত্তি তুলেছে তা সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে ’সঙ্গতিপূর্ণ’ নয়। এখন জাতিসংঘের কমিশন অন দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল শেলফ (সিএলসিএস) উভয়পক্ষের অবস্থান দেখে সিদ্ধান্ত দেবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিষয়াবলি ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে ২০২০ সালের অক্টোবরে সংশোধিত সীমানা সিএলসিএসে জমা দেয় বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেছেন, ‘এটার জন্য ভারত অবজেকশন দিয়েছে, যাতে আমাদের দাবিটা যেন সিএলসিএস বিবেচনা না করে।

সেখানে আমরা বলেছি, এটা সঠিক নয়। বলেছি, এটা আইনসম্মত নয়।’ প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আলোচনা শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। দীর্ঘ সময়ে কয়েকটি বৈঠক হলেও সমাধান না পেয়ে ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক আদালতে যায় বাংলাদেশ।

সেখানেও সমঝোতা না হওয়ায় ২০১১ সালের মে মাসে বিষয়টি হেগের আদালতে গড়ায়। এর আগে ২০১২ সালে জার্মানির হামবুর্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের যে রায় দেয়, তাতে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত জলসীমার অধিকার পায় বাংলাদেশ।

এরপর ২০১৪ সালের ৭ জুলাই বিরোধপূর্ণ সাড়ে ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দেয় আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত।

আদালতের সেই রায়ের উপর ভিত্তি করে গত বছরের ২০ অক্টোবর সমুদ্রসীমা ঠিক করে সংশোধিত আবেদন জাতিসংঘের সিএলসিএসে জমা দেয় বাংলাদেশ। সেই সংশোধিত আবেদনের উপর গত ১৬ এপ্রিল আপত্তি জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর চিঠি দেয় ভারত।

আপত্তিপত্রে ভারত জানায়,সংশোধিত সীমানার আবেদনে দুই সীমানার মধ্যবর্তী ‘গ্রে-এরিয়া’ বিষয়টি স্পষ্ট করতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ বাংলাদেশ। তাদের ভাষায়, বিস্তারিত তথ্যের অভাবে এটা ‘বোঝা কষ্টকর’ যে সীমানা নির্ধারণ আদালতের রায় অনুযায়ী করা হয়েছে কি-না। এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে ভারতের বক্তব্যের জবাব দেয় বাংলাদেশ, যা সম্প্রতি সিএলসিএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.