সিনেমার গল্পকেও হার মানায় মা-ছেলের পুনর্মিলন

বছর দশেকের কিশোর আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী হারিয়ে গিয়েছিলেন, সেই থেকে ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে ছিলেন মা মঙ্গলেমা বিবি। অবশেষে ৮০ বছরের বৃদ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরলেন সেই ছেলে, যখন মায়ের বয়স ১১০ বছর। হতভাগা এই মা-ছেলের পুনর্মিলন হলেও তাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৭০টি বছর।

আব্দুল কুদ্দুস মুন্সীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাড্ডা গ্রামে। তখন কেবল গ্রামের নাম জানা থাকায় দীর্ঘ ৭ দশক পর বাড়ি ও পরিবারকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। গ্রামের সূত্র ধরেই ফেসবুকের কল্যাণে আজ শনিবার মা-ছেলের দেখা হয়। বাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামে ঝরনা বেগমের বাড়িতে তাদের সাক্ষাতের গল্প সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে।

আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী জানান, তার চাচা রাজশাহীর বাগমারা থানার দারোগা ছিলেন, তার সঙ্গে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিন দিন চাচার সঙ্গে থাকার পর ভালো না লাগায় একাকি বেড়াতে বের হয়ে হারিয়ে যান। পরে হাঁটতে হাঁটতে আত্রাইয়ের সিংসাড়া গ্রামে গিয়ে সাদেক আলীর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় জোটে। সেখানেই বড় হওয়া, পরে বারুইপাড়া গ্রামে বিয়ে করে সংসার পাতা।

কুদ্দুসের চাচাতো ভাইয়ের নাতি শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১২ এপ্রিল আব্দুল কুদ্দুসের এক প্রতিবেশী ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে কুদ্দুসের বাবা-মা ও বাড্ডা গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়। সেটি জানতে পেরে আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আব্দুল কুদ্দুসের খুঁজ মেলে। পরে চারজন রাজশাহীতে গিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে নিয়ে আসা হয়, সেদিন মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথাও বলেন আব্দুল কুদ্দুস।

মায়ের মুখে বাম হাতের বুড়ো আঙুল কাটার দাগ জেনে প্রথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত হন আব্দুল কুদ্দুস। তিনি জানান, এত বছর পরে মায়ের সন্ধান পেয়ে তিনি এবং তার মা এখন ভীষণ খুশি। বর্তমানে আব্দুল কুদ্দুসের ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে, দুই ছেলে বিদেশে ও এক ছেলে বাড়িতে থাকেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.