সীমান্তে মিয়ানমার সেনাদের টহল, উদ্বেগ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের গতিবিধি গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে উ’দ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, গত শুক্রবার থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি মিয়ানমারের সৈন্যদের টহল স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে বলে দেখা গেছে।

সীমান্ত এলাকার অন্তত তিনটি পয়েন্টে সৈন্যদের ‘ব্যাপক সংখ্যক’ উপস্থিতি দেখা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়ে গতকাল (রোববার) চিঠি দেয়া হয় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়েকে। চিঠি দেয়ার বিষয়টি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার সেলের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

তবে সীমান্তে মিয়ানমারের সৈন্যদের টহল বৃদ্ধিকে সৈন্য সমাবেশ বলতে নারাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। দুই দেশের সীমান্তের তিনটি পয়েন্টে মিয়ানমার সৈন্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে মাছ ধরার ট্রলারে করে সীমান্তের নিউন ছুয়াং, মিন গা লার গি ও গার খু ইয়া পয়েন্টে দেশটির সৈন্যরা জড়ো হতে থাকে।

মাছের ট্রলারের উপরের অংশে কাঠ বসিয়ে, নিচে সৈন্যদের থাকার জায়গা করে দিয়ে কৌশলে প্রায় হাজারখানেক সৈন্যকে তারা জড়ো করেছে। এর আগে ২০১৭ সালেও রোহি’ঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর আগে এভাবে সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করে মিয়ানমার।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে মাছ ধরার ট্রলারের ছদ্মবেশে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আন্তর্জাতিক সীমানায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাওয়ায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। একই ধরনের সন্দেহজনক আচরণ ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগেও করেছিল মিয়ানমারের সেনারা। তারপরই রো’হি’ঙ্গাদের ওপর হা’ম’লা শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *