সেলুনের নাপিতদের প্রতি তালেবান কড়া বার্তা

আফগানিস্তানে সেলুনের নাপিতদের প্রতি তা’লেবান কড়া বার্তা দিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, কোনও ব্যক্তির দাড়ি কা’মানো যাবে না। দেশটির হেলমন্দ প্রদেশের সেলুনগুলোতে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়েছে তা’লেবান। হেলমন্দ প্রদেশের তালেবান কর্তৃপক্ষ জানায়, দাড়ি কামানো ইসলামী আইনের পরিপন্থী। যারাই এই আইনের ব্যত্যয় ঘটাবেন তাদের শা’স্তি পেতে হবে। তা’লেবানের ধর্ম পুলিশ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ হেলমন্দ প্রদেশের সেলুনগুলোতে একটি বিজ্ঞপ্তি টাঙানয় তা’লেবানের। এতে তা’লেবান সতর্ক করে দিয়ে বলছে, চুল এবং দাড়ি কাটার ক্ষেত্রে অবশ্যই নাপিতদের শরিয়া আইন মানতে হবে। এ ব্যাপারে কারো অভিযোগ জানানোর অধিকার নেই।

এদিকে রাজধানী কাবুলের কিছু সেলুনের নাপিত জানিয়েছেন, তালে’বানের তরফ থেকে ওই রকম বার্তা তারাও পেয়েছেন। কাবুলের এক বিশিষ্ট নাপিত বলেন, ‘তালে’বানরা আমাদের কাছে প্রায়ই আসে এবং দাড়ি ছাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তালে’বানদের একজন আমাকে বলেছিল, আমরা ইসলামী শরিয়া মেনে কাজ করছি কি না তা ধরার জন্য গোপনে পরিদর্শক পাঠানো হবে।’

কাবুল শহরের অন্যতম বড় একটি সেলুনের আরেক নাপিত জানান, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন, যিনি তাকে আমেরিকান স্টাইলে চুল কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া কারও দাড়ি কামানো বা ছেঁটে না ফেলারও নির্দেশ দিয়েছেন ওই সরকারি কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, তালে’বানের প্রথম শাসনামলেও এরকম কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। ২০০১ সালে তালে’বানের পত’নের পর আফগানিস্তানে ফের ক্লিন শেভ ও নানা ধরনের চুলের স্টাইল জনপ্রিয় হতে থাকে। দেশটির শহরগুলোতে অত্যাধুনিক সেলুনও খুলতে শুরু করে। তবে এখন আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তা’লেবান ফিরে আসায় সেই আগের বিধিনিষেধ ফের মানতে হচ্ছে সেলুনগুলোকে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.