স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে পাকিস্তানের পাঁচে পাঁচ

সেমিফাইনালের প্রস্তুতিটা দারুণভাবেই সারলো পাকিস্তান। স্কটল্যান্ডকে ব্যাটে-বলে রীতিমত বিধ্বস্ত করে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিল বাবর আজমের দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে রোববার স্কটিশদের ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এই নিয়ে এই পর্বের ৫ ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেল দলটি। আর স্কটিশরা মূল পর্ব থেকে বিদায় নিল কোনো জয় ছাড়াই।

শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাবর আজম ও শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রানের পাহাড়ে চড়ে পাকিস্তান। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে শেষ স্কটল্যান্ডের ইনিংস।লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে স্কটল্যান্ড। দলীয় ২৩ রানে অধিনায়ক কাইল কোয়েতজার (৯) বিদায় নেওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।

ইনিংসের অর্ধেক পার হতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। দলটির রান তখন মাত্র ৪১। এর মধ্যে ওপেনার জর্জ মানজির ব্যাট থেকেই আসে ১৭ রান, তাও ৩১ বল খেলে। চতুর্থ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন রিচি বেরিংটন ও মাইকেল লিস্ক। ১৫ ওভার শেষে তাদের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮২ রানে। ওভারপিছু রান দরকার ২০-এর বেশি। এই অবস্থায় বেরিংটন ও লিস্কের জুটিতে আসে ৩২ বলে ৪৬ রান।

তবে ১৬তম ওভারে পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে লিস্ক (১৪) বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। তবে বেরিংটন ৩৪ বলে ফিফটির দেখা পেয়ে যান। এরপর আফ্রিদির বলে একবার জীবন পাওয়া গ্রিভস (৪) ফেরেন রৌফের বলে বোল্ড হয়ে। বেরিংটন শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

বল হাতে পাকিস্তানের স্পিনার শাদাব খান নেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন শাহিন আফ্রিদি, হারিস রৌফ এবং হাসান আলী। এর আগে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় পাকিস্তান। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবরের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রানের জুটি। চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে থাকা রিজওয়ান অবশ্য আজ মাত্র ১৫ রান করেই বিদায় নিয়েছেন।

তবে এর মধ্যেই ক্রিস গেইলকে ছাড়িয়ে একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এতদিন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক ছিলেন গেইল। ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং দানব ২০১৫ সালে ১৬৬৫ রান করেছিলেন। আর রিজওয়ান চলতি বছর এখন পর্যন্ত রান করেছেন ১৬৭৬।

রিজওয়ান বিদায় নেওয়ার পর তিনে ফখর জামান বিদায় নেন ৮ রান করেই। তবে বাবরের দুর্দান্ত ফর্ম এই ম্যাচেও জারি ছিল। ৪০ বলে তিনি তুলে নিয়েছেন আসরে নিজের চতুর্থ ফিফটি। বাবর ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে চার ফিফটির রেকর্ড আছে সাবেক অজি ওপেনার ম্যাথু হেইডেন (২০০৭),

বিরাট কোহলি (২০১৪) এর দখলে। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে এই নিয়ে বাবরের ফিফটির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৩টিতে। এই তালিকায় দুইয়ে আছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি (১৩) এবং ১১টি করে ফিফটি নিয়ে যৌথভাবে তিনে আছেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

বাবরের পাশাপাশি হাফিজ খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস। মাত্র ১৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলার পথে এই অভিজ্ঞ ব্যাটার ৪টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি বাবরের সঙ্গে মাত্র ৩২ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েছেন। এরপর শোয়েব মালিক এসে দারুণ সঙ্গ দেন বাবরকে। তাদের ১৫ বলের জুটিতে আসে ৩০ রান।

বাবর ৪৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ রানে বিদায় নিলেও শোয়েব মালিক রীতিমত স্কটিশ বোলারদের কচুকাটা করেছেন। মাত্র ১টি চার মারলেও এই ডানহাতি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৬টি! প্রথম ১৪ বলে ৩২ রান করার পরের চার বলে অর্থাৎ মাত্র ১৮ বলে তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ফিফটি।

ইনিংসের শেষ ওভারে মালিকের ৩ ছক্কা ও ১ চারে আসে ২৬ রান! শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি তুলে নেওয়া মালিক অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। বল হাতে স্কটল্যান্ডের ক্রিস গ্রিভস ২ উইকেট পেলেও ওভারপিছু খরচ করেছেন ১০.৭৫ রান করে। এছাড়া ১টি করে উইকেট গেছে হামজা তাহির ও সাফিয়ান শরিফের ঝুলিতে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.