স্টার্লিং-চামিরাদের সঙ্গে উজ্জ্বল তামিম-মুস্তাফিজ

রঙিন পোশাকে আনন্দে ভাসার সঙ্গে খানিকটা হতাশায়ও ডুবেছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সাফল্য না পেলেও টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ছিল টাইগাররা। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের ঝলকানি দেখাতে পারেনি। উল্টো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে বছর শুরু করা বাংলাদেশের শেষটা হতাশায় মোড়ানো।

ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টির পর টেস্টেও পাকিস্তানের কাছে পাত্তা পায়নি বাংলাদেশ। ২০২১ সালে চারটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলেও শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপট দেখিয়েছে। পুরো বছরে ১২ ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৮টি ম্যাচে।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে এবছরের সবচেয়ে বড় অর্জন, প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানো। যেখানে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২০ ম্যাচ খেলা বাঁহাতি এই পেসার নিয়েছেন ২৮ উইকেট। সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়াদের মাঝে এই টাইগার পেসারের অবস্থান পাঁচে।

টি-টোয়েন্টির চেয়েও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সফল মুস্তাফিজ। যেখানে ১০ ম্যাচ খেলে ১৮ উইকেট নিয়ে বছরের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়াদের তালিকায় রয়েছেন তিনে। টি-টোয়েন্টি না খেললেও ওয়ানডেতে নিয়মিতই ছিলেন তামিম ইকবাল।

পুরো বছর জুড়েই টাইগারদের হয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ১২ ওয়ানডেতে করেছেন ৪৬৪ রান। এক সেঞ্চুরির সঙ্গে রয়েছে চারটি হাফ সেঞ্চুরি। এবছর তার চেয়ে বেশি রান করেছেন কেবল পল স্টার্লি এবং জানেমান মালান।

সাদা পোশাকের ক্রিকেট পুরো বছরটা কেবলই জো রুট, শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। ২০২১ সালে খেলা ১৪ টেস্টে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৭০৮ রান। এদিকে বল হাতে সবচেয়ে বেশি ৫৪ উইকেট নেয়ার সঙ্গে ব্যাট হাতেও দারুণভাবে অবদান রেখেছেন অশ্বিন। তার সঙ্গে লড়াইটা বেশ ভালোভাবেই জমিয়েছিলেন ৯ টেস্টে ৪৭ উইকেট নিয়ে দুইয়ে থাকা আফ্রিদি।

টেস্ট ক্রিকেটে বছরটা যদি হয় রুটের তাহলে টি-টোয়েন্টি কেবলই রিজওয়ানের। ২০ ওভারের ক্রিকেটে বেশ কয়েকটা রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান, ১ হাজার রানের মাইলকফলক স্পর্শ করার সঙ্গে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার করেছেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার ব্যাটার।

১২ হাফ সেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরিতে এবছর ২৯ টি-টোয়েন্টিতে ১৩২৬ রান করেছেন রিজওয়ান। বল হাতে বছরটা দুর্দান্ত কেটেছে শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। ২০ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৬ উইকেট। তার সঙ্গে দারুণভাবে টক্কর দিয়েছেন তাবরাইজ শামসি। হাসারাঙ্গার সমান ৩৬ উইকেট পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকার এই স্পিনার খেলেছেন ২২ ম্যাচ।

ওয়ানডেতে ৩ সেঞ্চুরি ও দুই হাফ সেঞ্চুরিতে ১৪ ম্যাচে ৭০৫ রান করেছেন স্টার্লিং। যা চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি রান। দুইয়ে থাকা মালানের রান ৮ ম্যাচে ৫০৯। এদিকে বল হাতে ১৪ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন দুশমন্থ চামিরা। ১৩ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে দুইয়ে রয়েছেন সিমি সিং।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.