৬ ইউনিয়নের চারটিতে নৌকার জয়

চতুর্থ ধাপে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) আট ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার ও দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। রবিবার রাতে বেসরকারিভাবে তাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

বিজয়ী নৌকার প্রার্থীরা হলেন- শ্রীপুর সদর ইউনিয়নে মসিয়ার রহমান, নাকোল ইউনিয়নে হুমায়ুনুর রশিদ মুহিত, দারিয়াপুর ইউনিয়নে আব্দুস সবুর, সব্দালপুর ইউনিয়নে পান্না খাতুন, আমলসার ইউনিয়নে সেবানন্দ বিশ্বাস, গয়েশপুর ইউনিয়নে আব্দুল হালিম মোল্লা।

বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- শ্রীকোল ইউনিয়নে কুতুবুল্লাহ হোসেন কুটি, কাদিরপাড়া ইউনিয়নে আইয়ুব হোসেন খান।আট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৭, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭৬ ও সাধারণ সদস্য পদে ২৬৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরো পড়ুন: প্রধান বিচারপতির আলোচনায় দুই নাম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাচ্ছেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তিনি অবসরে গেলে কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি-এ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বিচারাঙ্গনে। এতে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির নাম এলেও নিয়োগ পাবেন একজন। চারজনের তালিকাটি ছোট করলে ঘুরেফিরে আসছে প্রথমদিকের দুজনের নাম। তারা হচ্ছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

তবে কে হবেন ২৩তম প্রধান বিচারপতি তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন। নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত করার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির। এ বিষয়ে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।’ এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক শনিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। নিয়োগের বিষয়ে তিনি যখন বলবেন তখন আমরা সাচিবিক দায়িত্ব পালন করব। কবে নাগাদ নিয়োগ সম্পন্ন হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবসরে যাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হওয়া উচিত।

৩০ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। সেদিনই দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি অবসরে যাবেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৭ বছর হলেই তিনি অবসরে যাবেন। এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি আছেন। অন্যরা হলেন-বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। এছাড়া বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ২০২৩ সালের ৩০ জুন এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি অবসরে যাবেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে যে চারজন বিচারপতি আছেন, তাদের সবাই প্রধান বিচারপতি হওয়ার যোগ্য। রাষ্ট্রপতি যাকে নিয়োগ দেবেন, তিনিই প্রধান বিচারপতির পদ অলংকৃত করবেন।

দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন। এরপর এ সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে বঙ্গভবনে যাবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরের পর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের গেজেট জারি করবে আইন মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, সংবিধান অনুসারেই রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) অবসরে যাবেন। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন। এ নিয়োগের দিন (২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। তখনো তার চাকরির মেয়াদ ছিল আরও ১০ মাস।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.